Saturday, September 14, 2019

"অন্তঃশক্তি



"অন্তঃশক্তি"
মিজানুর ভূইয়াঁ


সুন্দর মাঝে সুন্দর খোঁজ
অন্তরটুকু বিকশিত করো। ...

অন্তর মাঝে খোঁজ আলো
মন ততই লাগবে ভালো।
বিপদে না যেয়ো হারিয়ে
আত্নবিশ্বাস দিতে হবে বাড়িয়ে।
নিজ মনে অদম্য শক্তি ধরো
কঠিনকে তা দিয়ে সহজ করো।
সংকটকে পরাজিত করো
বিজয়ের সংকল্পে লেগে পড়ো।
দেহমনে প্রশান্তির ঝর্ণাধারা,
দুঃচিন্তা সব হয়ে যাবে সারা।
আধার যতই আসুক ধেয়ে
মনের আলো দ্বিগুন দিবে বাড়িয়ে।
তোমার শক্তি তোমারেই কাছে
শান্তির দূত নিজ মন মাঝে।
জাগিয়ে তোলো সেই প্রাণশক্তি
তাতেই আনন্দ তাতেই মুক্তি। ।
******************
সেপ্টেম্বর ১৩ ২০১৯
ভার্জিনিয়া ইউ এস এ

Thursday, July 11, 2019

"মায়ের ফোন" 


"মায়ের ফোন"
মিজানুর ভূইয়াঁ

তোমাকে ফোন করার দায় থেকে
তুমি আমাকে মুক্তি দিয়ে গিয়েছো মা।
তোমাকে এখন আর ফোন করা হয়না;
আগের মতো প্রতিদিন।
ফোন করার তাগিতও অনুভব করিনা,
কারণ সেই ফোনটি এখন আর আগের মতো বেজে উঠেনা;
আর তুমিও হ্যালো বাবা বলে ফোন উঠাওনা।
তুমি যেমনি একেবারে চুপচাপ হয়েগেছো;
তোমার ফোনটিও বিগত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে
একেবারে চুপচাপ নিবৃতে গুমাচ্ছে।
বিগত সাড়ে পাঁচ বছর তোমাকে ফোন করতে হয়নি;
তাই এই সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সে নাম্বারটিও
আমার স্মরণ তালিকা থেকে মুছেগেছে।
কি সাংগাতিক নিয়ম এই ভবলীলার;
এক সময়ে যা কিছু সবার কাছে অতি প্রিয়,
সময়ের ব্যবধানে সেসবও মুছে যায় প্রিয়তালিকা থেকে।
  আজ অনেকদিন পর হঠাৎ করেই
সেই নিশ্চুপ এবং আমার স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়া
ফোনটি একই শব্দে বেজে উঠলো।
মায়ের নামে সংরক্ষিত ফোন নাম্বারটি
হঠাৎ করে আবার আমার চোখের সামনে জ্বলসে উঠলো;
আমার মুঠো ফোনের পর্দায়।
আমি বিস্মিত এবং কিছুটা আনন্দিত ও অবিশ্বাস!
সেকি তবে মায়ের ফোন!!! এ কি করে সম্ভব!
এই ফোন তো অনেক আগেই বিলীন হয়েগেছে;
তবে কি সত্যি মা ফোন করেছে!!!
একটু আশা নিয়ে সুখানন্দে হ্যালো বলতেই;
ছোট বোনটি ওপাড় থেকে সালাম দিয়ে
আমাকে কৌশলাদি জিজ্ঞেস করতে শুরু করলো;
আমি সকল কিছুর উত্তর দেয়ার আগেই জিজ্ঞেস করলাম,
এই ফোন তুই কোথায় পেলি!
আর তোর নিজের ফোনইবা কোথায় ।
সে বিনয়ের সাথে বললো ভাইজান,
আমার ফোনটি কোনো কারণে কাজ করছিলোনা
মায়ের নাম্বারটি আমার সংরক্ষণে ছিল;
আর তাই সেই নাম্বার থেকেই আপনাকে কল দিলাম।
আমার বুকের ভেতর যতোটুকু আশা জেগে উঠেছিলো,
নিমিষেই তা হতাশার তিমিরে ডুবে গেলো;
তবে এই ভেবেই একটু স্বস্তি পেলাম
মা হয়তো নয়,
অন্তত মায়ের ফোনটিতো আবার বেজে উঠেছে।
মা হয়তো চলেগেছে আমাদের ছেড়ে,
মায়ের ফোনটিতো আজও বেঁচে আছে।
প্রিয় স্মৃতিরা এভাবেই বেঁচে থাকে;
আসলে কখনোই একেবারেই বিলীন হয়ে যায়না।
জীবনের কোনো না কোনো এক সময়
অলৌকিকভাবে ভেসে উঠে।
জীবিত আত্নার সাথে বিদেহী আত্নার
শান্তি সম্মলনে মিলিতি হয় কোনো এক মহাক্ষনে।
প্রিয় স্মৃতিরা কখনোই হারায়না
সব সময় আশেপাশেই বিচরণ করে‘
থাকে হৃদয়য়ে এবং প্রিয় মানুষের সাথে।
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

১১ই জুলাই ২০১৯
ভার্জিনিয়া ইউ এস এ

Friday, July 5, 2019

 ☆☆☆ত্রিরত্ন☆☆☆

সময়ের অগ্রদূত, সর্বজন শ্রদ্ধেয়, বিজ্ঞ ও গুণীজন ওয়াশিংটনে বাংলার ত্রিরত্ন ও সাদা মনের মানুষ জনাব ওয়াহেদ হোসাইনী ( Rtd. World Bank), ডঃ সুলতান আহমেদ ( Rtd. World Bank) এবং কাফি খানের (Rtd.voice of America) প্রতি যথাযত সন্মান প্রদর্শনে এবং সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় আমার এই ক্ষুদ্র নিবেদন ll


        ☆☆☆ত্রিরত্ন☆☆☆
             মিজানুর ভূইয়াঁ

ত্রিরত্ন বাংলার থাকুক অতি যতনে
হৃদয়ের মনিকোঠায় সবার।
মুখের এই হাসি থাকুক চির অমলিন
হয়ে আনন্দ অনিবার।
জন্মেছে সেই কোনো এক শুভক্ষণে
ধরণী তাই ধন্য সেকারণে।
প্রদীপ আলোয় চারিদিক ভরেছে আলোকবন্যায়
জীবন হয়ে থাকুক স্বরণে ও বরণে l
প্রবাসে বাংলার এই তিন অগ্রদূত শান্তির মশাল হাতে উজ্জ্বল করেছে বাংলার মুখ।
বাংলার সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে দুনিয়া জুড়ে
পেয়েছে সন্মান; তাই আজ এতো সুখ।
আত্নত্যাগের মহিমায় যারা নিবেদিত প্রাণ
ফুটিয়েছে হাসি অনাথের মুখে।
নিজের সময় আর শ্রম দিয়ে
চেষ্টা শুধু কিছু একটা করা,অপরের সুখে।
সময়ের অগ্রদূত ক্লান্তিবিহীন এগিয়েছে পথ
কঠিন শ্বপতের ঝান্ডা হাতে।
সময় এখন এগিয়ে আসার, নতুন কান্ডারি
বাকি পথ দিতে পাড়ি হেটে একসাথে।
হাজার বছর বেঁচে থাকুক
শান্তির প্রতীক ত্রিরত্ন; মুখে নিয়ে অমলিন হাসি।
সুখ আর আনন্দে ভরে উঠুক জীবন
চারিপাশে ফুল ফুটুক রাশিরাশি। ♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡♡
৫ই জুলাই ২০১৯
ভার্জিনিয়া ইউ এস এ   

Friday, June 21, 2019

"নির্মল জীবনের নির্মল প্রাপ্তি"

"নির্মল জীবনের নির্মল প্রাপ্তি"
  মিজানুর ভূইয়াঁ

কৃতজ্ঞতা,বিশ্বাস আর নম্ররতা
করিতে পারে পৃথিবী বস।
তাতেই বাড়ে জীবনের মূল্যবোধ
বাড়ে খ্যাতি আর যশ।
প্রত্যাখ্যান আর অকৃতজ্ঞতায়
উগ্র হীনমন্যতার প্রকাশ।
নির্মূল করে সকল সম্ভবনা
সম্পর্ক আর শান্তি করে বিনাশ।
শ্রদ্ধা ভক্তিতে সস্পর্ক দীর্ঘায়ু
মিলে সকল প্রশান্তি আর প্রত্যাশা প্রাপ্তি।
অভক্তি আর অশ্রদ্ধায়
ক্ষয়ে যায় সকল মূল্যবোধ নেই তাতে মুক্তি।
ভক্তিতে জীবনে শান্তি আসে
বিশ্বাসে মিলে মহা মুক্তি।
সুশীল কর্মে সুশীতল জীবন
সুন্দর জীবনের ইহাই একমাত্র প্রাণশক্তি।
জটিল মনস্কতায় সংকটময়
শান্তি বিনাশে, বাড়ায় জীবনে শুধুই ভয়।
সৃজনশীল জীবন উদ্ভাবনাময়
সুখ সমৃদ্ধি সুন্দর পরিপাটি করে সুখময়।
নির্মল জীবনের প্রতিশ্রুতি
দূর হয় পঙ্কিলতা সতেজ স্বচ্ছ জীবন।
খুলে দেয় মুক্তির দ্বার
শান্তির দূত চারি পাশে করে বিচরণ।
♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧♧
২২ জুন ২০১৯ ভার্জিনিয়া,ইউ এস এ   

Saturday, June 15, 2019

এক জোড়া পাখি এইতো সেই হাটি হাটি পা পা একযুগল ময়না হয়েগেছে মস্ত বড় নওজোয়ান ঘরে আর পা রায়না সময়ের ভাঁজে শরীরী কারুকার্য গড়ে তোলে উঠে সবল দীর্ঘ দেহ এভাবেই বেড়ে উঠেছে একজোড়া পাখি আজও সেই মায়ার বাঁধনে ধরে রাখি যতই কাছে টানি কাছে আর রওয়না সবল দুটি পা এখানে সেখান ছুটে যায় ধরে কতো রকম বায়না মন চায় ধরে রাখি শিকল পায়ে তবুও পাখি উড়ে যায় আকাশ ছুঁয়ে আজও যখন চোখে পড়ে ছোট্ট বেলার মায়াভরা মধুর হাসি এক রাশ খুশিতে ভরে উঠে প্রাণ মন দুনয়নে আনন্দ অশ্রুতে ভাসি তবুও অনেক সুখী পাখি জোড়া আছে আসল মানুষ হয়ে বড় হবে আছি সেই আশে সুখে দুঃখে দাঁড়াবে মানুষের পাশে ২১ এপ্রিল ২০১৯ ভার্জিনিয়া ইউ এস এ             

Friday, June 14, 2019

প্রেমের গান- ২৬ 

প্রেমের গান- ২৬
তোমার ক্লান্তিভরা দুচোখে
তুবুও যেনো পূর্ণিমা হাসে
তুমি এসেছিলে কাছে যখন
আনন্দ উচ্ছাসে হেসেছে এই মন
সারারাত জেগে সুদূর পথ চলে
ওগো তুমি এলে এই স্বপ্নালয়ে
তোমার ক্লান্তিভরা দুচোখে
তুবুও যেনো পূর্ণিমা হাসে
পথের ক্লান্তি তোমায় পারেনি হারাতে
ইচ্ছেগুলো তাই চোখে ভাসে
তুমি এক নিমিষে আঙ্গিনায় ছড়ালে ফুলরেণু
যেনো আকাশে সাজানো রংধেনু
তোমার ক্লান্তিভরা দুচোখে
তুবুও যেনো পূর্ণিমা হাসে
প্রজাপতিরা আজ মেলেছে রঙ্গিন পাখনা
এই মিলনক্ষন হেসে খেলে যাকনা
পথের ক্লান্তিগুলো তুমি পথেই এসেছো ফেলে
তোমার ক্লান্তিভরা দুচোখে
তুবুও যেনো পূর্ণিমা হাসে
 মিজানুর ভূঁইয়া
 ১০ই ফেব্রুয়ারী ২০১৯     

Monday, June 10, 2019

"প্রাণের শহর"

সেই দিনগুলো:
 "প্রাণের শহর"


 মিজানুর ভূঁইয়া আজ থেকে বাইশটি বছর
ছিলাম যখন টগবগে কিশোর।
ইচ্ছার বিপরীতে প্রবাস জীবন
সময়ের ভাঁজে এসে হলো পোড়ামন।
অলি গলি চষে বেড়ানোর যদিও ছিলনাকো অভ্যাস;
তবু চারিদিকে শুনেছি কানাঘুষা ফিসফাস।
রাস্তায় হেটে চলেছি বীরদর্পে
ফুটেছিলো হরেক রকম ফুল চারিপাশে।
ফুলের বাহার আর তারই সৌরভে
জীবন ছিল পরিপূর্ণ আনন্দ গৌরবে।
হাসি খুশি আনন্দে রঙ্গীন স্বপ্নের জীবন
রাজা মহারাজার মতো ছিল মোর ভূবন।
পরিপাটি বেশভূষা দেহ মন সতেজ
আজও রয়েছে কিছুটা পুরোনো সেই রেশ।
যৌবন জৌলুশ, পরিপাটি পরিচ্ছন্ন মন
কেটেছে দিনগুলো আজও কিছুটা রয়েছে তেমন।
বাতাসে উড়েছে বাবড়ি চুল
পরিপাটি বেশভূসা ছিল মন আনন্দে মশগুল।
ইচ্ছে ছিলোনা মোটেই, নারী মন করা আকর্ষণ
সবই ছিল আপন দেহ মন পরিপাটি; নিজ দর্শন।
হিসেবের খাতায় আজ অতিক্রান্ত বাইশ বছর
পিছনে ফেলে আসা সেই প্রাণের শহর।
আকাশে বাতাসে আজও খুঁজি সেই স্বপ্ন
পাইনা সেই আবেশমাখা পরিতৃপ্তি;
পাই শুধু; ক্ষত বিক্ষত একটি হৃদয় ভগ্ন।
নির্মল বাতাস আর মাটি সোধাগন্ধ
যাহা কিছু পাই আজ সবই যেন দ্বন্ধ l
যে রঙ্গীন স্বপ্নে ছেড়ে আসি মাতৃভূমি
সব কিছুই বিলীন একদিন;
নিজে নিজেকে কবু আর নাহি চিনি।
তবুও অবশেষে প্রবাস হয়ে যায় আপন ভুবন
বিসর্জন দিয়ে সব; নিয়ে মনে অন্য পণ।
আজ থেকে বাইশটি বছর
আজও মন খোঁজে তোমায়; হে প্রাণের শহর। ************************************* ভার্জিনিয়া ইউ এস এ
১০ মে ২০১৯